জাতীয়বাংলাদেশসর্বশেষ

ওসমানীনগরে বাড়ছে সবজির দাম, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

হাবিবুর রহমান বাবুল ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা : সিলেটের ওসমানীনগরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। কয়েক দফায় পণ্যের দাম বাড়ায় উপজেলার সবজির বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।

কেজিপ্রতি সবজির দাম ৮০ থেকে শুরু করে ২৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষদের জন্য বড় ধরনের চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সম্প্রতি, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং বন্যাকে সামনে রেখে ওসমানীনগরের বাজারে কাঁচামাল সরবরাহে ঘাটতির কথা বলা হলেও, সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে বাজার অস্থির করে তুলেছে।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে, পেঁয়াজ: ৮০-৮৫ টাকা আলু: ২৫-৩০ টাকা,কাঁচা মরিচ: ২০০-২৫০ টাকা,টমেটো: ১০০-১৫০ টাকা,বেগুন: ৭০-৮০ টাকা মূলা: ৫০-৬০ টাকা,মুকি: ৫০-৫৫ টাকা,পটল: ৪০-৪৫ টাকাকাকরোল: ৮০-৯০ টাকা,পেঁপে: ৩০-৪০ টাকা,শিম: ১২০-১৩০ টাকা,এছাড়া লাউ, বরবটি, ঝিঙে, জিঙ্গা ও অন্যান্য সবজির দামেও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ, টমেটো ও শিমের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।গোয়ালাবাজার, তাজপুর, দয়ীর, ১৯ মাইল, বুরুঙ্গা, বেগমপুর, সাদীপুর, শেরপুর, উমরপুর, চাতলপাড় ও বাংলাবাজারের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বাজারেই একই পরিস্থিতি।

কোথাও দাম একটু কম, কোথাও বা আরও বেশি — তবে সব জায়গাতেই ক্রেতাদের ভিড় কম।বাজারে কথা হয় দিনমজুর পরিমল চন্দ্র চন্দ ও সানুর মিয়ার সঙ্গে। তাঁরা বলেন, “প্রতিটি সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০-৫০ টাকা বেড়েছে। আগের চেয়ে বেশি টাকা নিয়ে বাজারে এলেও, কোনো কিছুই ঠিকমতো কিনতে পারি না। মাছ-মাংস তো আমাদের স্বপ্ন।”সবজি বিক্রেতারাও তাদের অসহায়ত্বের কথা বলছেন। তাঁদের মতে, অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে মাঠে চাষাবাদ সম্ভব হয়নি। ফলে স্থানীয় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষেত থেকেও স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পাইকারি বাজারেই সবজির দাম চড়া।উপজেলার কলারাই বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরশ আলী বলেন, “বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের নিজস্ব উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। অন্য এলাকার সবজি নির্ভর করে আমাদের বাজার। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে পরিবেশ ও আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আশা করছি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে।”

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা তদারকি না থাকায় ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বাজারে নিয়মিত মনিটরিং, সিন্ডিকেট ভাঙা ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন নাগরিকরা।ওসমানীনগরের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, “এভাবে আর কতদিন চলবে? সরকার যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।”ওসমানীনগরের বাজারে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছেন বড় ধরনের খাদ্য সংকটে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button