আইন-আদালতসর্বশেষ

ভারতের সেই সাকিনা বেগমকে পাঠানো হলো কারাগারে

রাজধানীর ভাষানটেকের টেকপাড়া গলি থেকে আটক ভারতের আসামের ৬৮ বছরের বৃদ্ধা সেই সাকিনা বেগমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমনের আদালত এ আদেশ দেন। তবে এদিন সকিনা বেগমের পক্ষে কোন আইনজীবী ছিলেন না।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আটকের পর “দ্যা কন্ট্রোল অফ এন্ট্রি এ্যাক্ট, ১৯৫২’ আইনে পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করায় অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা করে ভাষানটেক থানা-পুলিশ। এরপর আজ শুক্রবার সখিনা বেগমকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর ভাষানটেক থানা এসআই (নিঃ) শেখ আলী সনি। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

মামলার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে ভাষানটেক থানাধীন টিনসেড টেকপাড়া গলির মাথায় আসামি ভারতীয় বৃদ্ধা মহিলা সকিনা বেগমকে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনদের সামনে জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামি তাহার বাড়ি ভারতেী আসামে বলে জানায়।

এতে আরো বলা হয়, আটক সখিনা কিছু কিছু বাংলা ভাষা ও কিছু কিছু ভারতের আসাম প্রদেশের ভাষায় কথা বলে। তিনি ভারতের আসাম রাজ্যের নাগরিক বলে জানায়। তার কাছে পাসপোর্ট ও ভিসা চাইলে তিনি জানান যে, তাহার কোন পাসপোর্ট ও ভিসা নাই। তিনি কিভাবে পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়া ঢাকার ভাষানটেক থানায় এলাকায় এসেছে সে সংক্রান্তে কোন তথ্য প্রদান করতে পারে না। সকিনা ভারতের আসাম রাজ্যের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫সেপ্টেম্বর) সকিনা বেগমকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিসি বাংলা। প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়, মে মাসের ২৫ তারিখ আসামের নলবাড়ি জেলার বরকুরা গ্রাম থেকে পুলিশ ডেকে নিয়ে গিয়েছিল সাকিনা বেগমকে। থানায় একটা সই করার কথা বলে ওই নারীকে ডেকে নিয়ে গিয়েছি পুলিশ। তারপরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।

একই সময় আসামের কয়েকশো মানুষকে এভাবেই ‘সই’ করানোর নাম করে থানায় ডেকে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। এদের অনেককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, কারও ঠাঁই হয়েছে ‘বিদেশী’দের আটক শিবিরগুলোয়। তবে অনেকে নিজের বাড়িতে ফিরে গেলেও ৬৫ বছর বয়সী সাকিনা বেগমের আর কোনও খোঁজ পায়নি তার পরিবার।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button