
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরবে মানুষ। কেউ বাস, কেউ লঞ্চ, কেউবা ট্রেনে চড়ে যাবে বাড়ি। কিন্তু এ আনন্দ অনেকের জন্য ভোগান্তিতে পরিণত হতে পারে। ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়াতে পারে ২০৭টি যানজটপ্রবণ স্পট। এ ছাড়া সারা দেশে ২৮৫টির বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো (ব্ল্যাক স্পট) চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব সড়কের বাঁকে বাঁকে আশঙ্কা থাকে দুর্ঘটনার। আর এ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হতাহতের ঘটনা অহরহ ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঝরছে বহু তাজা প্রাণ। ঈদের সময় এ দুঘটনা আরও বৃদ্ধি পায়। দুর্ঘটনায় হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় ভারী হয়ে উঠছে আশপাশের পরিবেশ। পুলিশ বলছে, মহাসড়ক, নৌপথ ও রেলপথে চাঁদাবাজি, ডাকাত বা অতিরিক্ত ভাড়া রোধে বিশেষ নজরদারি এবং ঈদের সময় ফাঁকা ঢাকা ও পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদযাত্রা নিশ্চিতে নৌ, হাইওয়ে ও জেলা পুলিশকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গতি নিয়ন্ত্রণসহ দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় দেখেশুনে সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালাতে হবে। হাইওয়ে পুলিশের চিহ্নিত করা যানজটপ্রবণ ২০৭টি স্পট হচ্ছে- ঢাকা-আরিচা সড়কে ১৪টি, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর সড়কে ৫৫টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ২১টি, ঢাকা-সিলেট সড়কে ৪৩টি, ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে ৪৫টি, ঢাকা-কক্সবাজার সড়কে ৯টি, ঢাকা-খুলনা সড়কে ১৪টি ও যশোর-খুলনা সড়কে ৬টি। এদিকে হাইওয়ে পুলিশের চিহ্নিত বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ ২৮৫টি স্পটের মধ্যে কুমিল্লা অঞ্চলে ৮৭টি, সিলেট অঞ্চলে ২০টি, গাজীপুর অঞ্চলে ৭১টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১৬টি, বগুড়া অঞ্চলে ৩০টি, রংপুর অঞ্চলে ৮টি, মাদারীপুর অঞ্চলে ৩৫টি ও খুলনা অঞ্চলে ১৮টি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাইওয়ে সড়কে তীব্র যানজটের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ও ব্রিজের উন্নয়ন কাজ, বেপরোয়া বা অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানো এবং মহাসড়কের ওপর যত্রতত্র বাজার বা অবৈধ স্থাপনা। এ ছাড়া দুর্ঘটনার কারণে ধীরগতি, ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা এবং দূরপাল্লার বাসের যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা যানজটকে তীব্র করে তোলে। এ ছাড়া অপরিকল্পিত বাঁক, সরু রাস্তা, ট্রাফিক সাইন বা বাতির অভাব এবং অবৈধ বাজার বা বসতি স্থাপনের কারণে হাইওয়ে সড়কে ব্ল্যাক স্পট (দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা) চিহ্নিত করা হয়। এসব এলাকার দুর্ঘটনা এড়াতে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, সঠিক লেনে ড্রাইভ করা, সাইনবোর্ড ও সিগন্যাল দেখে চলা এবং কুয়াশা বা বাঁকে গতি কমানো জরুরি। এ ছাড়া নিয়মিত গাড়ির ফিটনেস (ব্রেক ও টায়ার) পরীক্ষা, সিট বেল্ট ব্যবহার এবং ওভারটেকিং না করার মাধ্যমে হাইওয়েতে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। সর্বোপরি চালক ও যাত্রীদের সচেতনতার বিকল্প নেই। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশ কাজ করছে। হাইওয়ে সড়কে চাঁদাবাজি, চুরি ও ডাকাতি ঠেকাতে পুলিশের প্রতিটি সদস্য তৎপর রয়েছে। ঈদযাত্রা সামনে রেখে হাইওয়ে সড়কে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, বিশেষ নজরদারি, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোয় (ব্ল্যাক স্পট) হাইওয়ে পুলিশের টহল ডিউটি থাকে। এ ছাড়া গতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চেকপোস্ট বসিয়ে স্পিড গান ব্যবহার করা হচ্ছে। ৪ হাজারের অধিক পুলিশ সদস্য, ৮২০টি টহল দল, ৩০০টির অধিক চেকপোস্টের মাধ্যমে মোটরসাইকেল প্যাট্রলিং, ড্রোন মনিটরিং ও ওয়াচ টাওয়ারের সহযোগে মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে। চালকদের ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি না চালানো, ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকা এবং দ্রুতগতিতে গাড়ি না চালাতে আমরা অনুরোধ করেছি। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিতে মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি ও ব্যাটারিচালিত রিকশা মহাসড়কে উঠে পড়া দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। আমাদের দেশে মানসম্মত গণপরিবহনের ব্যাপক অভাব রয়েছে।




