খেলাসর্বশেষ

সিলেট থেকে বিপিএলের যাত্রা

সিলেট থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। আজ উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেট টাইটান্স মুখোমুখি হবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বেলা ৩টায়। এ ছাড়া দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে একই মাঠে খেলতে নামবে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালস।

সিলেট টাইটান্স মেহেদি হাসান মিরাজকে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানিয়েছে, ‘আমাদের পূর্ণ আত্মবিশ্বাস আছে তার (মিরাজ) নেতৃত্বের ওপর। আমরা বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বে এবারের মৌসুমে টাইটান্স দারুণ কিছু করবে।’ দলটি বিপিএলের নীতি মেনে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ২৫ শতাংশ অর্থ ক্রিকেটার ও টিম ম্যানেজমেন্টকে দিয়ে দিয়েছে বলেও জানিয়েছে। সিলেট টাইটান্স বিপিএলে একবারই ফাইনাল খেলেছে। ২০২৩ সালে মিরপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে হেরে যায় সিলেটের এই দল। এ ছাড়া কখনো প্লে-অফেই খেলতে পারেনি সিলেটের দল। গতবার সাত দলের মধ্যে সবার নিচে ছিল তারা। এবার শক্তিশালী দল গড়েছে সিলেট। লক্ষ্যও তাই বড়। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে খেলবেন মুশফিকুর রহিমরা। তবে বিদেশি ক্রিকেটার নিয়ে বিপদে আছে চট্টগ্রাম। আবরার, নিরোশান আর পল স্টারলিংকে দলে নিলেও তারা আসতে পারছেন না।

এবারের বিপিএল শুরু হচ্ছে নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক দল ছেড়ে দিয়েছেন। নোয়াখালী এক্সপ্রেসও আছে কঠিন পরিস্থিতিতে। এ দলের কোচ খালেদ মাহমুদ দায়িত্ব ছাড়তে চান। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিও এবারের বিপিএল মাঠে গড়ানোর ক্ষেত্রে ছিল বড় বাধা। তবে সব বাধা অতিক্রম করেই মাঠে গড়াচ্ছে ফ্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এ আসর। বিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারের অনেকেই চলে এসেছেন। তবে এবারের বিপিএলে বড় আকর্ষণ কমই আছে। সিলেট টাইটান্সে খেলবেন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার মঈন আলী। আজমতউল্লাহ ওমরজাইও আছেন এই দলে। তবে দুজনই আসবেন ইন্টারন্যাশনাল টি-২০ লিগ শেষ হওয়ার পর (৪ জানুয়ারির পর)। ঢাকা ক্যাপিটালসের বড় দুই তারকা অ্যালেক্স হেলস ও রাহমানউল্লাহ গুরবাজও আসবেন ইন্টারন্যাশনাল টি-২০ লিগ শেষ করে।

বিপিএল অতীতে ঢাকা থেকেই যাত্রা করেছে। শেষও হয়েছে ঢাকাতেই। এবার বেশ ভিন্নতা নিয়েই শুরু হচ্ছে ক্রিকেটের এই লড়াই। সিলেট থেকে যাত্রা করে চট্টগ্রামে যাবে বিপিএল। এরপর আসবে ঢাকাতেই। রাজধানীতেই শেষ হবে টুর্নামেন্ট। সিলেটে ১২টি, চট্টগ্রামে ১২টি এবং ঢাকায় ১০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সিলেট পর্বে সিলেট টাইটান্স সর্বোচ্চ পাঁচটি ম্যাচ খেলবে। আজ রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মুখোমুখি হবে দলটি। এরপর ২৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী এক্সপ্রেস, ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম রয়্যালস, ১ জানুয়ারি ঢাকা ক্যাপিটালস এবং ২ জানুয়ারি রংপুর রাইডার্সের মুখোমুখি হবে সিলেট টাইটান্স। এ পর্বে রংপুর রাইডার্স খেলবে চারটি ম্যাচ। সিলেট টাইটান্স ছাড়াও রংপুর মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম রয়্যালস (২৯ ডিসেম্বর), ঢাকা ক্যাপিটালস (৩০ ডিসেম্বর) এবং রাজশাহী রয়্যালসের (১ জানুয়ারি)।

বিপিএলের নতুন আসরে অংশ নিচ্ছে ছয়টি দল। রংপুর রাইডার্স, সিলেট টাইটান্স, ঢাকা ক্যাপিটালস, চট্টগ্রাম রয়্যালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল এবার নেই। নেই কুমিল্লা আর খুলনার দলও। নোয়াখালী এক্সপ্রেস যোগ হয়েছে নতুন দল হিসেবে। বিপিএলের সবচেয়ে সফল দল কুমিল্লা। তারা মোট চারবার এ টুর্নামেন্ট জয় করেছে। তিনবার জয় করে দ্বিতীয় স্থানে আছে ঢাকার দল। এ ছাড়া একবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুর রাইডার্স, ফরচুন বরিশাল ও রাজশাহীর দল।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button