
আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন দেশ উত্তর কোরিয়া। অথচ সেই উত্তর কোরিয়ার নিচে বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ধুঁকতে থাকা ফিলিস্তিনের নিচেও বাংলাদেশ। বৈশ্বিক অঙ্গনে দিনদিন তলানিতে নামছে বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান। ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’-এর ২০২৬ সালের জানুয়ারি সংস্করণে সূচক অনুযায়ী ১০১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫তম। এই পাসপোর্টের অধিকারীরা ভিসা ছাড়া বিশ্বের মাত্র৩৭টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। আর উত্তর কোরিয়া, ফিলিস্তিন যৌথভাবে তালিকার ৯৪তম স্থানে রয়েছে। তাদের নাগরিকরা ভিসা ছাড়া ৩৮টি দেশে যেতে পারেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। এতে ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুযোগও কমে আসছে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের। গতকাল হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস তাদের সর্বশেষ তালিকা প্রকাশ করেছে। এক নম্বরে রয়েছে সিঙ্গাপুর, আর যৌথভাবে দুই নম্বরে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। তালিকায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন এবং উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্টের চেয়েও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। যদিও আগের সংস্করণে ১০৬টি অবস্থানের মধ্যে বাংলাদেশের ছিল ১০০তম। অর্থাৎ তখনো এটি বিশ্বের অন্যতম দুর্বল পাসপোর্ট ছিল। ২০২৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট এখন সিঙ্গাপুরের। তারা ভিসা ছাড়াই ১৯২টি দেশে যেতে পারে। দ্বিতীয় স্থানে আছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। তাদের প্রবেশাধিকার ১৮৮টি দেশে। এরপর তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইউরোপের পাঁচটি দেশ-ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন এবং সুইজারল্যান্ড। তারা ভিসা ছাড়া ১৮৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারে। পাসপোর্ট ইনডেক্সের একেবারে তলানিতে থাকা পাঁচটি দেশ হলো পাকিস্তান, ইয়েমেন, ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তান। ২০ বছরের ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সটিই একমাত্র, যা ‘ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি’ (আইএটিএ)-এর বিশেষ তথ্যের ওপর নির্ভর করে। এই ইনডেক্সে ১৯৯টি ভিন্ন পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্বজুড়ে পাসপোর্টের মান বা ক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য এটিকেই প্রামাণ্য মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে মালদ্বীপের পাসপোর্ট ৫২তম স্থানে রয়েছে। এটিই এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট। মালদ্বীপের নাগরিকরা ভিসা ছাড়া ৯২টি দেশে যেতে পারেন। এরপর রয়েছে ভারত (৮০তম), ভুটান (৮৫তম) এবং শ্রীলঙ্কা (৯৩তম)। এই দেশগুলোর নাগরিকরা যথাক্রমে ৫৫, ৫০ এবং ৩৯টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ায় মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধনী ব্যক্তিদের দ্বৈত নাগরিকত্ব পেতে সহায়তা করে। হেনলি সূচক ছাড়াও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন পাসপোর্ট সূচক প্রকাশ করে।




