
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাউন্ড বক্সে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ প্রচারের অভিযোগে আটক হয়েছেন নিষিদ্ধঘোষিত এক ছাত্রলীগ নেতা। শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকা থেকে সাউন্ড সিস্টেমসহ তাকে থানায় নিয়ে যায় শাহবাগ থানা পুলিশ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ও সেই ছাত্রলীগ নেতার মুক্তির দাবিতে ডাকসুর ভিপি পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর কর্মসূচিতে নামেন। এ সময় তার সঙ্গে যে রিকশাতে মাইকে ভাষণ চালানো হচ্ছিল সেখানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখার সহ-সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক স্বপন রায় উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও কিছু নেতাকর্মীদেরও দেখা গেছে কর্মসূচিতে। তারা মূল কর্মসূচি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক শাখা ছাত্রলীগের সদস্য আরিফ মনোয়ার মাহিনকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় লাঠি হাতে হামলাতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতাকর্মী শাহবাগ থানার সামনে জড়ো হয়ে মাইকে ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে শুরু করেন। কর্মসূচি চলাকালে রাত সাড়ে ১০টার কিছু সময় পর একদল শাহবাগ থানার দিক থেকে এসে মাইক ভাঙচুর করে এবং ব্যাটারি নিয়ে যায়। এ সময় তাদের বলতে শোনা যায়, ‘আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের ছাড় দেওয়া হবে না।’
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে শাহবাগ থানার সামনে আসেন। তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভাষণ বাজানোর বিরুদ্ধে স্লোগান ও বক্তব্য দেন। একই সময় সেখানে উপস্থিত হন ডাকসুর কয়েকজন নেতা, তারাও ভাষণ বাজানোর বিরোধিতা করেন।
এরপর রাত ১১টার দিকে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের ও সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেকসহ ছাত্রশক্তির নেতারা মাইকটি নিয়ে শাহবাগ থানার ভেতরে আসলে আবার ধস্তাধস্তি হয়। এসময় ছাত্রলীগের আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পুলিশে সোপর্দ করার জন্য টেনেহিঁচড়ে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যায় একদল। এ সময় ইমিকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
থানার সামনে মাইক বাজানোর বিষয়ে ডিসি মাসুদ বলেন, শাহবাগ থানার সামনে এসে মাইক বাজানোটা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা আব্দুল্লাহ আল মামুন নিয়ে তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।
উল্লেখ্য, চানখারপুল থেকে আটক হওয়া ছাত্রলীগ নেতার নাম নাম আসিফ আহমেদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি ২০২৪ সালে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাতেও জড়িত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের ওপর হমলায় অংশ নেওয়া এক ভিডিওতে তাকে দেখা গেছে। এ ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকাতে চাঁদাবাজির ঘটনায়ও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদে তার ছবি ও নাম পাওয়া গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ মার্চ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের পাশের চানখাঁরপুল এলাকায় সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ বাজাচ্ছিলেন এ ছাত্রলীগ নেতা। এ সময় ভাষণের বিখ্যাত অংশ ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ শোনা যাচ্ছিল। এ অবস্থায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন এবং তাদের সঙ্গে এ ছাত্রলীগের নেতার কিছুক্ষণ কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পুলিশ তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় সেখানে থাকা সাউন্ড অপারেটর ও মালিককেও থানায় নেওয়া হয় এবং ব্যবহৃত সাউন্ড বক্সগুলো জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ডিএমপি রমনা জোনের ডিসি মো. মাসুদ আলম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আটক ব্যক্তি ছাত্রলীগের পোস্টেড নেতা। ছাত্রলীগ যেহেতু নিষিদ্ধ আর জুলাই আন্দোলনে তাদের বিতর্কিত ভূমিকার কিছু লিংক পেয়েছি। তাকে এখনই ছাড়া হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




