করপাড়ার সরদারপাড়ায় চোরের দৌরাত্ম্য: বেগুন থেকে বদনা, মোবাইল থেকে মাছ ধরার জাল নিরাপদ নয়! আতঙ্কে নির্ঘুম এলাকাবাসী

ডেস্ক রিপোর্ট:
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ার সরদারপাড়ায় দিন দিন বেড়েই চলছে চুরির উপদ্রব। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চোরের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না কোনো কিছুই। গাছের বেগুন, রান্নার চুলার আগুন, মোবাইল ফোন, কাপড়-চোপড়, ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র এমনকি বাথরুমের প্লাস্টিকের বদনা পর্যন্ত চুরি হয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ মাছ ধরার জালও চোরের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সরদারপাড়া একটি ঐতিহ্যবাহী ও শান্তিপূর্ণ এলাকা। একসময় যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে দরজা খুলে ঘুমাতেন, সেখানে এখন দরজা-জানালা বন্ধ করেও রাতে বারবার জেগে উঠে দেখতে হচ্ছে ঘরে চোর ঢুকেছে কি না। ফলে পুরো এলাকাজুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গৃহবধূ জানান, কয়েকদিন আগে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রকৃতির ডাকে তিনি সন্তানকে নিয়ে বাথ রুমে জান। এসময় বাথরুমে পানিভর্তি একটি প্লাস্টিকের বদনা রেখে আসেন। কিছুক্ষণ পর দেখেন, চোর সেটিও পানিসহ নিয়ে গেছে।
আরো একজন গৃহবধূ জানান কিছুদিন আগে তার কাছে সুন্দর কিছু বেগুন ধরেছিল। ইচ্ছা ছিল সন্তানদের নিয়ে সেগুলো সকালবেলা রান্না করে খাবেন । সন্ধ্যায় গাছে বেগুন দেখে ঘুমালেও সকালবেলা সেই বেগুন আর পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দোকানদার জানান, কিছুদিন আগে তার শ্যালিকার মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়। এছাড়াও আরও অনেক পরিবার নিজেদের ঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন।
সর্বশেষ গত ১০ জুলাই দিবাগত রাতে একই এলাকার বাসিন্দা মো. সাপায়েত সরদার শখের বসে বাড়ির দক্ষিণ পাশের জমিতে একটি মাছ ধরার জাল পেতে রাখেন। সকালে গিয়ে দেখেন জালটি নেই। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সেটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে চুরি চলতে থাকলে একসময় এলাকার জামে মসজিদ থেকেও মুসল্লিদের জুতা চুরি হয়ে যেতে পারে। তাই তারা সবাইকে ঘরবাড়ি নিরাপদ রাখার পাশাপাশি মসজিদে যাওয়ার সময় জুতাও সতর্কতার সঙ্গে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত চুরি হলেও এর কোনো কার্যকর প্রতিকার হচ্ছে না। তাদের ভাষায়, “কেউ যেন দেখেও দেখছে না, শুনেও শুনছে না।” এলাকাবাসীর দাবি, এসব চুরির সঙ্গে বাইরের কোনো চক্র নয়, বরং স্থানীয় কারও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত চোর ও তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধি আল মামুন সরদার বলেন, “এলাকায় চুরি প্রতিরোধে খুব শিগগিরই এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”



