বাংলাদেশসর্বশেষ

গোয়াইনঘাটে বালু মহালের নামে লুটপাট ও চাঁদাবাজি: দিশেহারা ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা

​আব্দুর রহিম, সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন বালু মহাল ও নৌ-পথে চরম অরাজকতা, লিজের শর্ত লঙ্ঘন এবং চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র ও লাঠিয়াল বাহিনীর দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের অভিযানের তোয়াক্কা না করেই রাতের আঁধারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ড্রেজার।
​সিন্ডিকেটের কবলে হাজিপুর ও লাটি বালু মহাল
​অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাজিপুর বালু মহালের ইজারাদার ও তার সিন্ডিকেট সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বঞ্চিত করছেন। ইজারার শর্তানুযায়ী সনাতন পদ্ধতিতে এবং শুধুমাত্র ছোট নৌকার মাধ্যমে বালু উত্তোলনের কথা থাকলেও, ইজারাদার অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও যান্ত্রিক নৌযান ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টা বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন।
​একই চিত্র দেখা গেছে লাটি বালু মহালেও। সেখানেও রয়্যালটির নামে ব্যবসায়ীদের সাথে অসদাচরণ এবং প্রতি ফুট বালুর জন্য সরকারি হারের চেয়ে অতিরিক্ত ৭ থেকে ৮ টাকা করে জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও ডোবাড়ী ও লেঙ্গুড়া ইউনিয়নে ‘ইউনিয়ন ট্যাক্স’-এর নামে চলছে রমরমা চাঁদাবাজি। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের কাছে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের বৈধ ট্যাক্সের রসিদ থাকা সত্ত্বেও, স্থানীয় কিছু নামধারী ব্যক্তি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার করে পুনরায় টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
​সীমানা লঙ্ঘন ও বসতভিটার বিপর্যয়
​হাজিপুর বালু মহালের লিজ গ্রহীতারা সরকারি নির্ধারিত সীমানা মানছেন না। লিজ এলাকার বাইরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে স্থানীয় মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে। ইজারার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত বালু পরিবহনের সময়সীমা থাকলেও, বর্তমানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই ৫ থেকে ১০ হাজার ফুট পর্যন্ত বড় বড় নৌকায় বালু পরিবহন করা হচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট তীব্র স্রোত ও যান্ত্রিক নৌকার গতিতে নদীর দুই পাড়ের বসতভিটা ও কৃষিজমি ক্রমাগত ভাঙনের কবলে পড়ছে। যারা এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করছেন, তাদের ওপর চালানো হচ্ছে লুটপাট ও ভয়ভীতি প্রদর্শন।
​প্রশাসনের অভিযান ও রহস্যজনক নীরবতা
​স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, দিনের বেলায় প্রশাসন কিছু অভিযান পরিচালনা করলেও রাতের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাতের অন্ধকারে পুনরায় ড্রেজার মেশিন সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড পুরোদমে চলতে থাকে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রশাসনের অভিযানের পরও কীভাবে এই চক্রটি পুনরায় কর্মকাণ্ড চালানোর সাহস পায়?
​এলাকাবাসীর দাবি, ৩১ কোটি টাকার লিজের রাজস্বের চেয়েও সাধারণ মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমির নিরাপত্তা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, এভাবে অতিরিক্ত চাঁদাবাজি ও লুটপাট চলতে থাকলে এই খাতের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। গোয়াইনঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button