রাজনীতিসর্বশেষ

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ক্ষুব্ধ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা

রকিব আল মাহমুদ, সিলেট, ৪ জুলাই, ২০২৬ :
​জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ঐতিহাসিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল ‘বৈষম্যহীন সমাজ গঠন’। কিন্তু সেই আন্দোলনের অন্যতম দাবিদার জুলাই যোদ্ধারা আজ নিজেরাই বৈষম্যের শিকার। এমনটাই অভিযোগ তুলেছে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের যোদ্ধারা। সারাদেশের ন্যায় এই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সিলেটে। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা।
​সিলেটের একাধিক আন্দোলনকারী ও জুলাই যোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন, সরকারি অর্থে ও ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই মহতি অনুষ্ঠানটি একটি কুচক্রী মহল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আন্দোলনকারী জানান, সরকারি বরাদ্দের এই আয়োজনে জুলাই আন্দোলনের মাঠ পর্যায়ের অনেক আন্দোলনকারী এবং এ ও বি ক্যাটাগরির আহত জুলাই যোদ্ধা এবং অনেক শহীদ পরিবারকে কোনো আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।
​অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সিলেটের এক আন্দোলনকারী বলেন, “আমরা এখানে কোনো আন্দোলনে আসিনি, এসেছি আমাদের বঞ্চনার কথা জানাতে। এই অনুষ্ঠান দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় হচ্ছে, কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের একক বরাদ্দে নয়। অথচ আয়োজক কমিটির সঙ্গে যুক্ত কিছু স্বার্থান্বেষী ও দলান্ধ ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের একটি বড় অংশকে বঞ্চিত করে শুধু নিজেদের পছন্দের লোকজনকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।”
​সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যারা বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করতে চায়, তারাই এই আয়োজনে বৈষম্য সৃষ্টি করে বিভাজন তৈরির পাঁয়তারা করছে। সিলেটের জুলাই যোদ্ধাদের অভিযোগ, স্থানীয় পর্যায়েও নেতৃত্বের আড়ালে থাকা কিছু ক্ষমতা-লোভী মানুষের কারণে তারা বারংবার ন্যায্য অধিকার ও সম্মান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
​সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, “আমাদের আন্দোলন ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, বৈষম্যের শিকার হওয়ার জন্য নয়। আমরা সরকারের অভিভাবকত্ব প্রত্যাশা করি। কিন্তু আজকের এই আয়োজনে যেভাবে আমাদের পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এই অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
​এই বঞ্চনা ও বৈষম্যের ঘটনা জুলাই যোদ্ধাদের মনে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, যে যোদ্ধারা নিজের জীবন বাজি রেখে সরকার পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারাই কেন এমন উপেক্ষার শিকার হচ্ছেন? বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button