
আব্দুর রহিম, সিলেট প্রতিনিধি:
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর সিলেট নগরীর কালেক্টরেট মসজিদের সামনে থেকে বের হওয়া একটি মিছিলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন সাংবাদিক এটিএম তুরাব। তিনি দৈনিক নয়া দিগন্ত ও দৈনিক জালালাবাদের প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মিছিলটি কোর্ট পয়েন্টের কাছে পৌঁছালে পুলিশ পেছন থেকে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ শুরু করে, এতে সাংবাদিক তুরাব গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তুরাবকে গুলি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এটি ‘টার্গেট কিলিং’ বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রেস লেখা ভেস্ট পরা সাংবাদিক তুরাবের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও সিলেট মহানগর পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সাদেক কাউসার দস্তগীর একজন কনস্টেবলের রাইফেল কেড়ে নিয়ে সরাসরি তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছেন।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এটিএম তুরাব পুলিশি অপরাধ ও অনিয়মের বিষয়ে বেশ সোচ্চার ছিলেন, যা তৎকালীন কোতোয়ালি থানার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সাদেক কাউসার দস্তগীরকে ক্ষুব্ধ করেছিল বলে জানা গেছে। এর আগে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে সিলেট নগরীর নাইওরপুলে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাদেক কাউসার দস্তগীরের নির্দেশে তুরাব লাঠিচার্জের শিকার হয়েছিলেন, যার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন দৈনিক কালবেলার ব্যুরো প্রধান মিঠু দাস।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান মোহাম্মদ আজরফ জাবুর একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সহকর্মীদের অভিযোগ, এটিএম তুরাবের সাংবাদিকতা এবং পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে তার সোচ্চার অবস্থানের কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। সাংবাদিক এটিএম তুরাবের মৃত্যু আজও একটি বড় প্রশ্ন হয়ে আছে—তিনি আদৌ কি ন্যায়বিচার পাবেন?




