বাংলাদেশসর্বশেষ

অসহায় শিশুর চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন আসকের সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রেজওয়ানুল আজিজ সজীব

রকিব আল মাহমুদ:
মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক)-এর সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রেজওয়ানুল আজিজ সজীব। এক অসহায় শিশুর জরুরি চিকিৎসার দায়িত্ব নিজ উদ্যোগে গ্রহণ করে তিনি মানবসেবার উজ্জ্বল নজির স্থাপন করেছেন।
জানা যায়, সিলেটের সাদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা ও কাঁচা তরকারি ব্যবসায়ী জুয়েলের দুই বছরের শিশু সন্তান খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশত দুই কানে চাল ঢুকিয়ে ফেলে। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে চাল বের করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
পরে শিশুটিকে নিয়ে জুয়েল সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গেলে, তার দাবি অনুযায়ী, শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ফি হিসেবে ৩ হাজার টাকা চাওয়া হয়। এছাড়া অপারেশন থিয়েটার চার্জ, কান থেকে চাল অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসহ মোট প্রায় ১০ হাজার টাকার ব্যয়ের কথা জানানো হয়। এমন বিপুল খরচের কথা শুনে হতদরিদ্র বাবা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
এ সময় বিষয়টি জানতে পারেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক)-এর সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রেজওয়ানুল আজিজ সজীব। তিনি শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন। নিজ অর্থায়নে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ইএনটি বিভাগে ভর্তি করান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শিশুটির কান থেকে সফলভাবে চাল অপসারণ করা হয়।
এ বিষয়ে রেজওয়ানুল আজিজ সজীব বলেন, “মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। একটি শিশুর কষ্ট এবং একজন অসহায় বাবার অসহায়ত্ব দেখে আমি চুপ থাকতে পারিনি। আল্লাহর রহমতে শিশুটি এখন চিকিৎসা পেয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসা উচিত।”
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জুয়েল বলেন, “আমি খুবই অসহায় ছিলাম। চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার ছিল না। সজীব ভাই যদি এগিয়ে না আসতেন, তাহলে আমার সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারতাম না। আমি তাঁর প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ। আল্লাহ যেন তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করেন।”
স্থানীয়রা জানান, রেজওয়ানুল আজিজ সজীব দীর্ঘদিন ধরে অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর এমন উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button